নাটোর / NATO সদস্য দেশসমূহ:

বর্তমানে ন্যাটো সদস্য সংখ্যা ২৮। ১২টি
দেশের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা দিন দিন
বৃদ্ধিই পাচ্ছে। তুরস্কের মতো দেশও ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য হতে উদগ্রীব।
ইউরোপীয় বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ,
নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, নরওয়ে সহ ইউরোপর বাইরের উত্তর আমেরিকার
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলে প্রথম ন্যাটো গঠন করে এবং চুক্তি সই করে। যদিও
গ্রিস ও তুরস্কও ১৯৫২ সালে এই ট্রিটিতে সই করে সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৮২ সালে
ন্যাটোর সাথে যুক্ত হয় স্পেন। এরপর ১৯৯১ সালে ভেঙ্গে পড়লে এর প্রাক্তন
সদস্য যারা ওয়ারর্শ পাক্টের অন্তর্ভুক্ত ছিল তারাও ন্যাটোতে যোগ দিতে শুরু
করে। প্রথমেই ১৯৯৯ সালে এগিয়ে আসে পোলান্ড, হাঙ্গেরি ও চেক রিপাবলিক। ২০০৪
সালে যোগ দেয় আরো কয়েকটি দেশ। তন্মধ্যে ছিল বুলগেরিয়া,
এস্তনিয়া,লটেভিয়া,রোমানিয়া,স্লোভাকিয়া ও স্লোভানিয়ার মতো সদ্য
স্বাধীনতালাভকারী দেশ সমূহ। ২০০৯ সালে যুক্ত হয় ক্রোয়েশিয়া ও আলবেনিয়া। আর
২০১৭ সালে সর্বশেষ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয় মন্টিনেগ্রো। খুব সম্প্রতি
ফ্রান্সও আবার ন্যাটোতে ফিরে আসে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্ব
ছিল সন্দেহ, অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার যুগ। দেশে-দেশে, মহাদেশে-মহাদেশে
শুরু হয় ক্ষমতার লড়াই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দুই
পরাশক্তির বিশ্বব্যাপী আধিপত্য। একদিকে পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে
সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র যে কোন মূল্যে প্রতিদ্বন্দ্বী
সোভিয়েত ইউনিয়নকে থামাতে বদ্ধ পরিকর ছিল। আর তারই অংশ হিসেবে
যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে গড়ে উঠে ন্যাটো ( নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি
অর্গানাইজেশন) যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে
ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা। কোল্ড ওয়ারের স্ট্রাটেজির অন্যতম
লক্ষ্যবস্তু ছিল ন্যাটো । ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হলেও সংগঠনটি
এখনো তার আধিপত্য বজায় রেখেছে। ব্রাসেলসে এর সদরদপ্তর অবস্থিত। যদিও
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর কিছুটা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে
জোটটি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *